Take a fresh look at your lifestyle.

বাংলাদেশকে আবার হারানোর কথা ভাবে না ভুটানিরা

0 145
২০১৬ সালে ভুটানের বিপক্ষে হেরে বিপর্যয় নেমে এসেছিল বাংলাদেশের ফুটবলে। যে বিপর্যয় এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভুটানের সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে না যে তাদের জাতীয় দল আবারও বাংলাদেশকে হারাতে পারে।

পাহাড়ের একেবারে কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ভুটান ফুটবল ফেডারেশন। হঠাৎ দেখে আবাসিক ভবন বলে ভুল হতে পারে কারও। চারদিকে সুনসান। নিস্তব্ধ। থিম্পুর চাংজিজ আবাসিক এলাকার একপাশে ভবনটি। আজ দুপুরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই একজন মাত্র কর্মকর্তার দেখা পাওয়া গেল। তিনিও বের হয়ে গেলেন দাপ্তরিক কাজ শেষে। ঢাকায় মতিঝিলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের একেবারে উল্টো মেরুতে ভুটানের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার ভবনটি। ব্যস্ততার লেশমাত্র নেই কোথাও। ফেডারেশন কার্যালয়ে গিয়েও অবশ্য পাওয়া গেল না ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক উগেন ওয়াংচুককে। আপাতত সবাই ব্যস্ত ৯ আগস্ট চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের সাফের টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়ে।

ফুটবল ভবন যতই নীরবতার চাদরে মোড়ানো থাকুক না কেন, শহরের সাধারণ মানুষের মনে খেলাটা বড় একটা জায়গা দখল করে রয়েছে। ট্যাক্সি ড্রাইভার কারমা দ্রাপচু সময় পেলেই যেমন টেলিভিশনের সামনে বসে পড়েন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পাঁড় সমর্থক ভুটানের জাতীয় দলের ম্যাচ বরাবরই স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবরে ভুটানের মাটিতেই বাংলাদেশ ৩-১ গোলে হেরেছিল স্বাগতিকদের কাছে। এএফসি এশিয়া কাপের বাছাইপর্বের ওই হার হয়তো মামুনুলদের হৃদয়ে দগদগে ক্ষত হয়েই রয়েছে। ‘ভুটান ট্র্যাজেডি’ এখনো বাংলাদেশের ফুটবলারদের পোড়ায়। প্রসঙ্গটা তুলতেই মনে হলো, দুই বছর আগে বাংলাদেশকে হারানোর গর্ব এখনো লেগে রয়েছে কারমার চোখেমুখে। আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকায় সাফের টুর্নামেন্টে আবারও ভুটান মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের। ৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ওই ম্যাচে কি আবারও ভুটান হারাতে পারবে বাংলাদেশকে? প্রশ্নটা করার পর অবশ্য চেহারাটা পাংশু বর্ণ হয়ে গেল কারমার, ‘আমার মনে হয় না ভুটান আবারও জিততে পারবে।’

চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের মেয়েদের অনুশীলন দেখতে এসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। বাংলাদেশের ভুটান ট্র্যাজেডির প্রসঙ্গ উঠতেই কারমার সুরে কথাগুলো বললেন তিনিও, ‘আবারও ভুটান বাংলাদেশকে হারাতে পারবে না। আমি সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে বাংলাদেশের খেলা এই মাঠে বসে দেখেছি। ওদের খেলা দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ হয়েছিলাম।’ গত বছর সেপ্টেম্বরে থিম্পুতে এই টুর্নামেন্টেই ভুটানের যুবদলকে ৩-০ গোল হারিয়েছিল বাংলাদেশ। জাফর ইকবাল করেছিলেন জোড়া গোল। ওই জয়ে হয়তো সত্যিকারের ‘প্রতিশোধ’ নেওয়া হয়নি। দুর্দান্ত খেলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ হয়েছিল টুর্নামেন্টের রানার্স আপ। বাংলাদেশের এই যুব দলকেই তাই যত ভয় সোনমের।

এটা সত্যি, ভুটানের ফুটবল ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। একাধিক ফুটবল একাডেমি রয়েছে ভুটানে। গত বছরে তৃণমূলে উন্নতি করার সুবাদে এএফসি প্রেসিডেন্ট রিকগনেশন এওয়ার্ড পেয়েছে ভুটান। তাদের রয়েছে চেনচো গেইলশেনের মতো তারকা ফুটবলার। ভারতের আইলিগে মিনার্ভা পাঞ্জাবে খেলেছেন গত মৌসুমে। দলকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। ভুটানের মানুষের হৃদয়ে ‘চেনচো’র স্থান তাই অনেক ওপরে। এক চেনচোই হয়তো ম্যাচের গতি প্রকৃতি বদলে দিতে পারে। ভুটানের জয়ের ওই ম্যাচে চেনচো করেছিলেন জোড়া গোল। তারপরও বাংলাদেশের সঙ্গে আবারও খেলতে কোথায় যেন আস্থার সংকটে ভুগছেন কারমা, সোনমরা! ভুটানি জনগণের মনের কথাটা কি আগামী সেপ্টেম্বরের সাফে সত্যি করে তুলতে পারবেন মামুনুল-রায়হানরা?

Leave A Reply

Your email address will not be published.