ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 101

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ছাত্র আন্দোলন নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। এর মানে এই নয়, এ বিষয়কে কেন্দ্র করে অরাজকতা চলতে থাকবে আর পুলিশ চুপ করে বসে দৃশ্য দেখবে। আমাদেরও ধৈর্যের সীমা আছে, ধৈর্যের সীমা লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে ‘ট্রাফিক সপ্তাহ-২০১৮’ উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও ডিএমপি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে শুধু মিথ্যাচার আর গুজব চলছে। একজন অভিনেত্রী গতকাল (শনিবার) কীভাবে কথাগুলো বললেন, কীভাবে অভিনয়টা করলেন আপনারা তা দেখেছেন। একটি মহল কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবি ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে এই অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। একজন দায়িত্বশীল নেতা কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে আক্রমন করার আহ্বান জানাচ্ছেন। ঢাকায় প্রবেশের সময় আমরা এমনসব ছাত্র নামধারী লোকজনকে আটক করেছি যাদের ব্যাকপ্যাক ভর্তি পাথর। এ কয়েক দিনে হাজার হাজার স্কুলড্রেস তৈরি করা হলো, হাজার হাজার আইডিকার্ড বানানো হলো। আইডিকার্ড ঝুলিয়ে অছাত্ররা কোমলমতি ছাত্রদের আন্দোলনে প্রবেশ করেছে। এ ধরনের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পুলিশ যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। তার মানে এই নয়, সামনে অরাজকতা চলতে থাকবে আর পুলিশ বসে বসে দৃশ্য দেখে যাবে। আমাদেরও ধৈর্যের সীমা আছে, সীমা অতিক্রম করলে অবশ্যই আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে আজ থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়েছে। ট্রাফিক সপ্তাহ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের মধ্যে আইন মানার সাংস্কৃতি নেই । কেউ আইন মানতে চাইনা। ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্য দিয়ে আমাদের আইন মানার সাংস্কৃতি বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সড়ক দূর্ঘটনা সারাদেশে ভয়ংকার রূপ নিয়েছে। আইন মানলে দূর্ঘটনা কমে আসবে, জনদূর্ভোগ কমবে। ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধনের মাধ্যমে আইন মেনে চলার প্রক্রিয়া শুরু হলো, সারাবছর যেন এটা চলমান থাকে সে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরতে আহবান জানিয়ে ট্রাফিক সপ্তাহ সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইজিপি তার বক্তব্যে বলেন, পুলিশ সপ্তাহের মত প্রতি বছর আমরা ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করে থাকি। এর ধারাবাহিকতায় সরকারের নির্দেশে আজ থেকে ৭ দিন ট্রাফিক সপ্তাহ পালন হবে। সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করতে ট্রাফিক সপ্তাহের মুল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে চলাচলের জন্য যতটুকু রাস্তার প্রয়োজন ততটুকু রাস্তা নেই। একটি দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু থাকে ৪টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন- ট্রাফিক এ্যাডুকেশন, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রাফিক ইনভার্মেন্ট ও ট্রাফিক ইনফোর্সমেন্ট। যা আমাদের দেশে সঠিকভাবে নেই। সবাই পুলিশকে নিয়ে কথা বলে! ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পুলিশ শুধু ট্রাফিক ইনফোর্সমেন্ট করে থাকে। এ সময় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাফিক আইন নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, আশা করব কেউ অযথা রাস্তায় জমায়েত করে জনগনের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত করবেন না।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ডিএমপিতে যানজট সবচেয়ে বড় সমস্যা। সমাধানে সকলে মিলে সবসময় পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমাদের আইন না মানার প্রবণতাই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কষ্টকর হবে। আজ থেকে স্কাউট ও গার্লস গাইডের সহযোগিতায় ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কেউ যদি এর সঙ্গে সহায়তা না করে উল্টো রাস্তায় নেমে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে, সেটি হবে দুর্ভাগ্যজনক।

জানা গেছে, রোববার ঢাকাসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে ট্রাফিক সপ্তাহ। আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত যানবাহনের নিবন্ধন, লাইসেন্স, ফিটনেস, ইনস্যুরেন্সসহ নানা কাগজপত্র ও এসবের মেয়াদ যাচাই-বাছাইয়ের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহে প্রভাবশালীদের আইন না মানার প্রবণতা বন্ধ ও সাধারণ জনগণকে রাস্তা পারাপারের জন্য ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.